ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক শোক ও আহাজারি দেখে অবাক হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, ইরানের জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ দেখে তার আগের ধারণা বদলে গেছে। তিনি জানান, আগে তিনি মনে করতেন ইরানের সাধারণ মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে, কিন্তু জানাজার চিত্র তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
​ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি ও সামরিক অবস্থান
এই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি চাইলে মাত্র এক গুলিতেই দেশটির বর্তমান নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারেন। তবে আলোচনার পথ খোলা রাখার স্বার্থে তিনি এখনই কোনো বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে জানান। ট্রাম্পের ভাষায়, “ওরা সবাই ওখানে উপস্থিত রয়েছে। চাইলে আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারি, কিন্তু আলোচনার জন্য আমাদের অন্য কাউকে প্রয়োজন। ওরা এখন একটি চুক্তির জন্য কাকুতি-মিনতি করছে।”
​যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার স্থিতি
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের উভয় পক্ষই আপাতত আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন উভয় দেশ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালাবে না বলে স্পষ্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
​দাফন ও জানাজার দীর্ঘসূত্রতার নেপথ্যে
দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরান শাসন করা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যুদ্ধের কারণে তার দাফন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। ইসলামী আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফনের নিয়ম থাকলেও পরিস্থিতির চাপে তা সম্ভব হয়নি।
​উল্লেখ্য, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনটিই খামেনির জানাজার জন্য বেছে নেয় ইরান। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে দাফনের মাধ্যমে তার শেষ বিদায় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারী লক্ষ লক্ষ ইরানির উপস্থিতি এই ঘটনাকে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত করেছে। গত ৪ জুলাই বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা গেছে।
​এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।