বড়পর্দায় শাকিব-সাবিলা জুটির চমক: ‘তাণ্ডব’ থেকে ‘রকস্টার’ সফরের নেপথ্য গল্প

শাকিব খানের সাথে ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। মালয়েশিয়া শুটিংয়ের অজানা গল্প এবং অনস্ক্রিন


বড়পর্দায় শাকিব-সাবিলা জুটির চমক: ‘তাণ্ডব’ থেকে ‘রকস্টার’ সফরের নেপথ্য গল্প


 বাংলাদেশের নাট্যজগতের জনপ্রিয় মুখ সাবিলা নূর গত তিন বছর আগে ছোটপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে রূপালী জগতে পা রেখেছিলেন। তবে ছোটপর্দা থেকে সিনেমা জগতে তাঁর এই যাত্রা যে এত দ্রুত দর্শকমনে এত বড় আলোড়ন তুলবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। বিশেষ করে ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সাথে জুটি বেঁধে তিনি একের পর এক ব্যবসাসফল ও চর্চিত কাজ উপহার দিয়ে যাচ্ছেন।


২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন-ড্রামা ‘তাণ্ডব’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার শাকিব খানের বিপরীতে আত্মপ্রকাশ করেন সাবিলা। ওই ছবির ‘লিচুর বাগানে’ গানটি মুক্তির পর থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুমুল সাড়া ফেলে। গানের প্রতিটি দৃশ্যে এই জুটির পর্দা-রসায়ন দর্শকদের এখনও সমানভাবে মুগ্ধ করে চলেছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরে ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রে আবারও এই জনপ্রিয় জুটিকে একসঙ্গে পর্দায় আবিষ্কার করেন ভক্তরা।

মেগাস্টারের ম্যাজিক ও মালয়েশিয়ার শুটিং অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঢাকাই মেগাস্টার শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অনবদ্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সাবিলা নূর। পর্দায় তাদের রসায়ন এতো চমৎকার হওয়ার পেছনে সমস্ত কৃতিত্ব তিনি শাকিব খান এবং পুরো প্রোডাকশন টিমকে দিয়েছেন।

শাকিব খানের সাম্প্রতিক সময়ের শারীরিক গঠন ও লুক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সাবিলা বলেন

  • শাকিব ভাই যেভাবে নিজের চরিত্র ও চেহারায় রূপান্তর এনেছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। আমি উনার ‘প্রিন্স’ প্রজেক্টের ট্রেইলার ও লুক দেখেও অবাক হয়েছিলাম। তবে মালয়েশিয়ায় ‘রকস্টার’ বা ‘তাণ্ডব’-এর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল একদম আলাদা।
শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ায় যখন শাকিব খান সেটে এসে পৌঁছান, তখন তাকে দেখে সাবিলা নিজেও কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলে একদম তরুণ বা টিনেজার লুকে হাজির হয়েছিলেন শাকিব। সাবিলার মতে, এটি কোনো সাধারণ পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল একটি ‘জাদুকরি রূপান্তর’। আর এই ধরণের পেশাদারিত্বের কারণেই পর্দায় তাদের রসায়ন এতোটা প্রাণবন্ত ও নিখুঁত হয়ে উঠেছে।

রোমান্টিক দৃশ্য ও ক্যামেরার পেছনের স্বাচ্ছন্দ্য

শাকিব খানের মতো ঢালিউডের এক নম্বর তারকার সাথে রোমান্টিক দৃশ্য করার অভিজ্ঞতা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সাবিলা জানান, কাজ করার সময় কোনো ধরণের দ্বিধা বা অস্বস্তি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি নিয়ে সাবিলা অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বলেন:


  • চরিত্রের গভীরতা: ক্যামেরা রোল বা অ্যাকশন বলার পর সেটে আর 'শাকিব খান' বা 'সাবিলা নূর' থাকেন না। তারা পুরোপুরি হয়ে যান ছবির দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র—‘আগুন’ এবং ‘মীরা’
  • কমফোর্ট জোন: শাকিব খান নিজে থেকেই একজন সহশিল্পীকে অভিনয় করার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতা দেন, যার ফলে দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তোলা অনেক সহজ হয়ে যায়।
  • প্রতিটি শটের প্রিভিউ: শাকিব খানের কাজের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, তিনি প্রতিটি শর্ট দেওয়ার পর নিজে মনিটরে প্রিভিউ দেখেন। কোথায় সংশোধন দরকার তা নিয়ে টিমের সাথে আলোচনা করেন, যা সাবিলাকে কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি উৎসাহিত করেছে।

শাকিব-সাবিলা জুটিকে নিয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও মতামত

এই তারকা জুটির কাজ এবং বড়পর্দায় তাদের মেলবন্ধন নিয়ে চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও দর্শকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে:

🟢 ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি (Positive Viewpoint):

ছোটপর্দা থেকে এসে সরাসরি শাকিব খানের মতো মেগাস্টারের পাশাপাশি নিজেকে মেলে ধরা সহজ কথা নয়। সাবিলা নূর তাঁর গ্ল্যামার ও অভিনয়ের সংমিশ্রণে প্রমাণ করেছেন যে তিনি বড়পর্দার জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শাকিব খানের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার সঙ্গে তাঁর কেমিস্ট্রি ঢালিউডকে এক নতুন ফ্রেশ জুটি উপহার দিয়েছে, যা বাণিজ্যিক সিনেমার দিক থেকে খুবই ইতিবাচক দিক।

🔴 নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি (Negative Viewpoint):

যদিও তাদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দর্শক পছন্দ করছে, কিন্তু কিছু সমালোচকের মতে—টানা শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করার ফলে সাবিলার নিজস্ব একক অভিনয় ক্ষমতার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র গ্ল্যামারাস রোমান্টিক কিংবা ড্যান্স কেন্দ্রিক চরিত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে সাবিলার উচিত একক লিড রোলের গল্পকেন্দ্রিক সিনেমাতেও নজর দেওয়া, যাতে তিনি কেবল 'শাকিবের নায়িকা' তকমায় আটকে না পড়েন।

Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...