বিহারে পড়ুয়া বিক্ষোভে একে-৪৭ ফায়ারিংকাণ্ড: বড় পদক্ষেপে সাসপেন্ড হলেন এসপি পুরাণকুমার ঝা


বিহারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে রাজ্যের একটি ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের এক জওয়ানের হাতে অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেল উঁচিয়ে গুলি চালানোর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এছাড়া বিহারের প্রভাবশালী বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদবও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছিলেন। ভিডিও ভাইরালের জেরে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল, আর এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপে বড় ধাক্কা খেয়ে সাসপেন্ড হলেন সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার পুরাণকুমার ঝা। তাকে পরবর্তী পদায়নের অপেক্ষায় বা ওয়েটিংয়ে রাখা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে বিহার সরকারের সাফাই ও আইনি লড়াই

ঘটনার আইনি লড়াই গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। নয়াদিল্লিতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আন্দোলন এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানির অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা পেশ করেছে বিহার প্রশাসন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, সিওয়ানের জেপি চকের নিকট গত ২৫ জুলাই ওই বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের দ্বারা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পরেই নিরুপায় হয়ে ওই কনস্টেবল আকাশে চার রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, পুলিশকর্মীর ছোঁড়া ওই চার রাউন্ড গুলিতে বিন্দুমাত্র হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং যন্তর মন্তরের পরিস্থিতি

অন্যদিকে, একই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে দিল্লি পুলিশও। প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তারা। দিল্লি পুলিশের পেশ করা হলফনামায় জানানো হয়েছে, প্রায় ত্রিশ হাজারের বেশি উগ্র জনতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাত্র পাঁচ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। এতবড় ভিড় সামলাতে গিয়ে পুলিশ চরম ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শক্তি ব্যবহার করেছে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের সহিংস আক্রমণের মুখে পড়ে তাদেরই দুই শতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, এই বিক্ষোভের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু সমাজবিরোধী বা দুষ্কৃতী অনুপ্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আর এই জাতীয় নানা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিহারে এসপিকে সাসপেন্ড করার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল প্রশাসন।

এই খবরের বিশ্লেষণী মূল্যায়ন

পজিটিভ দিক: ঘটনার পর বিহার প্রশাসন যেভাবে তড়িৎ গতিতে অভিযুক্ত কনস্টেবলের পর জেলা পুলিশ সুপারকে সাসপেন্ড করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি প্রমাণ করে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

নেগেটিভ দিক: আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনতা নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত সাধারণ পুলিশ কর্মীর হাতে একে-৪৭ এর মতো মারণ অস্ত্র থাকা এবং জনবহুল ছাত্র বিক্ষোভে তা ব্যবহারের ঘটনা অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। এটি পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও প্রশিক্ষণের মান নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করায়।

নিয়মিত ও নির্ভুল খবরের আপডেটে থাকতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।