সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সমাজের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে ফয়সাল নামের এক যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। কেবল তা-ই নয়, পৈশাচিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে তার পিঠে ইট চাপিয়ে চালানো হয়েছে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন, যা শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের এক গভীর চিত্র।
আইনের শাসন বনাম মব জাস্টিস: থামবে কবে এই সংস্কৃতি?
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা আমাদের দেশের জননিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক মারাত্মক অশনি সংকেত। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ থাকলে তা আইনের হাতে সোপ্পর্দ করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন, আদালত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকতে কেন সাধারণ মানুষ বিচারকের ভূমিকা পালন করবে—এই প্রশ্ন আজ জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
সন্দেহের বশে কাউকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেননা, আইন অনুযায়ী—সন্দেহ কখনো অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ হতে পারে না। আজ যদি এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হিংসাত্মক কার্যকলাপ বা মব জাস্টিস সমাজে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তবে কাল এই নির্মমতার শিকার হতে পারে যেকোনো নিরীহ মানুষের পরিবার। তাই ফয়সালের এই নির্মম মৃত্যু কেবল একটি পরিসংখ্যান বা গতানুগতিক খবর হয়ে যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার কঠোর দৃষ্টি রাখা জরুরি। এই হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের জোরালো দাবি।
