হ্যালো গুগল, আর কতদিন কন্টেন্ট লিখলে ইনডেক্স করবা?
মাসকে মাস পার হয়ে গেল, ডোমেন কেনার পর থেকে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন রাত পর্যন্ত জেগে তিল তিল করে ইউনিক কন্টেন্ট লিখে যাচ্ছি। অথচ গুগলের কাছে এর কোনো দামই নেই! পাত্তা পাওয়ার তো দূরের কথা, ক্রল করে ঝুলিয়ে রাখা ছাড়া সার্চ ইঞ্জিনটির আর কোনো কাজ নেই। এভাবে দিনের পর দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর চোখের ঘুম হারাম করার পর যদি কন্টেন্টগুলো ইনডেক্স না হয়, তবে মেজাজ ঠিক থাকে কী করে? এখন তো মাথার চুল নয়, শরীরের নিচের পশম বা বাল ছেড়া ছাড়া আর কোনো উপায় বা কাজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আজ সরাসরি গুগলের কাছে প্রশ্ন—একটি নতুন সাইটকে গুগলের কৃপা পেতে ঠিক কত বছর বা কত যুগ অপেক্ষা করতে হবে?
রাতের পর রাত জাগার খেসারত কি এই অবহেলা?
টাকার অঙ্কে ডোমেনের খরচটা হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু আসল পুঁজিতো হলো রক্ত পানি করা পরিশ্রম। দুপুর গড়িয়ে রাত, আর রাত গড়িয়ে , তখন একা একা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কন্টেন্টের লাইন সাজানো কতটা কষ্টের, তা কেবল একজন কনটেন্ট রাইটারই জানেন। পকেট থেকে টাকা খরচ করে ডোমেন কিনলাম, নিয়মমতো এসইও করলাম, ইউনিক তথ্য দিয়ে আর্টিকেল সাজালাম—সবই কি তবে গুগলের সিস্টেমের কাছে ডাস্টবিনে যাওয়ার জন্য? অন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো যেখানে কন্টেন্ট পাবলিশ করার সাথে সাথেই লুফে নেয় আর ইনডেক্স করে দেয়, সেখানে গুগলের এই তালবাহানা অসহ্য ছাড়া আর কিছু নয়।
ইনডেক্সিংয়ের নামে লুকোচুরি খেলা বন্ধ করো
গুগলের ওয়েবমাস্টার টুল বা সার্চ কনসোলে দিনের পর দিন “Crawled - currently not indexed” লেখা দেখতে দেখতে এখন চোখ দুটো চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাস্টম ডোমেন কেনার পরামর্শ দিয়ে গুগল নিজেরা তো দিব্যি গদিয়াসী হয়ে বসে আছে, কিন্তু সাধারণ ক্রিয়েটরদের পেটের ভাত আর ঘামের ফোঁটার দাম তারা কি বুঝবে? বড় বড় পলিসির বুলি আওড়ানো সার্চ ইঞ্জিনগুলোর এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বাংলা কন্টেন্ট স্রষ্টাদের পুরোপুরি পথে বসিয়ে দিচ্ছে।
আজকের এই লেখার মাধ্যমে সরাসরি গুগলের অ্যালগরিদমকে জানিয়ে দিতে চাই—এইভাবে দিনের পর দিন ক্রিয়েটরদের মেহনত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করো। যদি কন্টেন্ট ইনডেক্স করার নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন বা বছর থাকে, তবে তা পরিষ্কার করে জানিয়ে দাও। নইলে এই অক্লান্ত পরিশ্রম আর শূন্য প্রাপ্তির হিসেব নেওয়ার সময় কিন্তু একদিন ঠিকই কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা বুঝে নেবে!
