ডিপসিকের আইপিও পরিকল্পনা: সাংহাই বাজারে আসছে চীনা এআই জায়ান্ট

চাইনিজ এআই স্টার্টআপ ডিপসিক কি সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে আসছে? সিআইটিক সিকিউরিটিজের সাথে আইপিও পরিকল্পনা, ভ্যালুয়েশন এবং প্রযুক্তি বাজারের সর্বশেষ আপডেট
Ai


 চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) খাতের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ডিপসিক (DeepSeek) তাদের ব্যবসায়িক পরিধি আরও প্রসারিত করতে বড় ধরনের আর্থিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে। গুঞ্জন রয়েছে, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার মার্কেটে (STAR Market) প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) আনার প্রস্তুতি নিতে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ ফার্ম সিআইটিক সিকিউরিটিজকে (CITIC Securities) যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত কম্পিউটিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, দক্ষ গবেষক ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ চিপ উন্নয়নের খরচ সামাল দিতেই এই আইপিও-র পথে হাঁটছে 

ডিপসিকের এই আইপিও যাত্রার পেছনের মূল বিষয়গুলো:

  • প্রাক-আইপিও প্রস্তুতি: মূল আবেদন জমা দেওয়ার আগে ব্রোকারেজ ফার্মগুলোর মাধ্যমে প্রি-লিস্টিং টিউটরিং বা প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা চীনের মূল ভূখণ্ডের কোম্পানিগুলোর একটি সাধারণ নিয়ম।
  • মূল্যায়ন ও তহবিল: বর্তমান বাজার সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জুলাই মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী একটি বড়Funding Round-এর মাধ্যমে কোম্পানিটির মূল্যায়ন প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা ছিল। এর আগে জুন মাসেই প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছিল তারা।
  • বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা: গত জুনের ফান্ডিং রাউন্ডে ডিপসিকের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং ব্যক্তিগতভাবে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেন। এছাড়া টেক জায়ান্ট টেনসেন্ট হোল্ডিংস এবং ব্যাটারি নির্মাতা সিএটিএল (CATL)-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে অংশ নেয়।

গ্লোবাল এআই মার্কেটের বর্তমান চিত্র:

বর্তমানে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র—উভয় অঞ্চলেই এআই স্টার্টআপগুলোর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার এক তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন চীনা মডেল ডেভেলপাররা ফান্ডের সন্ধানে মরিয়া, অন্যদিকে মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো আরও অনেক বড় অংকের ভ্যালুয়েশন নিয়ে বাজারে আসছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন এআই ফার্ম অ্যানথ্রপিক কিংবা ওপেনএআই-এর মতো জায়ান্টরা ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বা তারও বেশি মূল্যায়নে আইপিও আনার পরিকল্পনা করছে। তবে মার্কিন এবং চীনা কোম্পানিগুলোর এই ভ্যালুয়েশনের ব্যবধান মূলত তাদের আয়ের পার্থক্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।

প্রতিভা ধরে রাখার লড়াই:

তহবিল সংকটের কারণে ডিপসিকের মতো উদীয়মান কোম্পানিগুলো অনেক সময় বাইটড্যান্স বা শাওমির মতো সুপ্রতিষ্ঠিত ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে মেধাবী গবেষক ও প্রকৌশলী হারাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থ এই মেধাবী কর্মীদের ধরে রাখতে এবং আকর্ষণীয় ইনসেন্টিভ দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

পজিটিভ ও নেগেটিভ মন্তব্য (বিশ্লেষণ)

  • ​পজিটিভ দিক: ডিপসিক যদি সফলভাবে সাংহাইয়ের স্টার মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে পারে, তবে এটি তাদের টেকসই অবকাঠামো তৈরি এবং মার্কিন জায়ান্টদের সাথে এআই রেসে টিকে থাকতে দারুণ আর্থিক শক্তি জোগাবে। তাছাড়া, স্থানীয় বড় বিনিয়োগকারীদের সমর্থন তাদের বৈশ্বিক বাজার ধরতে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
  • নেগেটিভ দিক: অন্যদিকে, মার্কিন বাজারের তুলনায় চীনা এআই কোম্পানিগুলোর রেভিনিউ জেনারেশন বা মুনাফা অর্জনের হার এখনও বেশ কম। তাছাড়া, কঠোর প্রতিযোগিতা এবং মেধাবী কর্মী ধরে রাখার চড়া মূল্যের লড়াইয়ে আইপিও থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে তা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের চাপের কারণ হতে পারে।

Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...