বিশ্বকাপের দামামা থমে গেছে অনেক আগেই। বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় তুলে উদযাপনে মেতেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। অথচ মাঠের ট্রফি দেওয়ার অধ্যায় শেষ হলেও মাঠের বাইরের বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। বিশেষ করে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং আর্জেন্টিনাকে ঘিরে পক্ষপাতিত্বের যে জল্পনা-কল্পনা এতদিন বাতাসে ভাসছিল, তাতে যেন নতুন করে ঘি ঢালা হলো। আর এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার উঠে এসেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে স্পেনের কাছে হেরে গিয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল সিআর সেভেনের দল পর্তুগালকে। কিন্তু পর্তুগালের বিদায় এবং বিশ্বকাপ সমাপ্তির পরেও ফুটবলের অন্তরালে থাকা রাজনীতি নিয়ে আলোচনা থামেনি। সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর খবর—আর্জেন্টিনাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুবিধা দেওয়া সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে নাকি চুপচাপ একটি ‘লাইক’ বসিয়ে দিয়েছেন রোনাল্ডো নিজেই
কী ছিল সেই ভাইরাল ভিডিও কন্টেন্টে?
ইনস্টাগ্রামে ‘এসপেজোপাবলিকো’ (Espejo Público) নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন স্প্যানিশ সাংবাদিক পিলার রদ্রিগেজ লোসানটোস। উক্ত ভিডিওতে ফুটবল মহলের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, রেফারির ভূমিকা এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর গতিবিধি বিশ্লেষণ করে দাবি করা হয় যে, টুর্নামেন্টজুড়ে বারবার সুবিধা পেয়েছে আলবিসেলেস্তারা।
সাংবাদিক লোসানটোসের ভাষ্য ছিল অত্যন্ত কড়া। তিনি খোলাখুলি অভিযোগ করে লেখেন:
"পরিসংখ্যান ও সিদ্ধান্তগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্তত আরও পাঁচ ম্যাচ আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। ফিফার অলিখিত সমর্থনে তারা আজ এই অবস্থানে। মাঠের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আসল শঙ্কা ফিফা প্রধান জিয়ানি ইনফ্যান্টিনোকে নিয়ে। মনে হচ্ছে স্পেন কেবল একটি ফুটবল দলের বিরুদ্ধে লড়ছে না, লড়ছে পুরো ফিফাসংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে—যারা যেকোনো মূল্যে ট্রফিটি মেসির হাতে দেখতে চায়।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, ফুটবল ঈশ্বর মেসি ও ফিফাকে নিয়ে করা এই বিস্ফোরক পোস্টে লাইক দিয়েছেন স্বয়ং রোনাল্ডো। ব্যস, ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই সংবাদ।
গুঞ্জন নাকি বাস্তবতা: কী বলছে ফ্যাক্ট চেক?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবির সপক্ষে স্ক্রিনশট ঘুরলেও ডিজিটাল ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ফলাফল কিন্তু অন্য কথা বলছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, রোনাল্ডোর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে বিতর্কিত ওই পোস্টে লাইক দেওয়ার কোনো বাস্তব বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আধুনিক ডিজিটাল যুগে ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করা কিংবা ফটোশপের মাধ্যমে কোনো তারকার নাম জড়িয়ে বিতর্ক উস্কে দেওয়া অত্যন্ত সহজ। ফলে পর্তুগিজ মহাতারকা সত্যি সত্যি ওই মতে সম্মতি প্রকাশ করেছিলেন নাকি এটি কেবলই ফুটবল ফ্যানদের তৈরি একটি 'ডিজিটাল ড্রামা', তা নিয়ে বড় রকমের প্রশ্ন থেকে যায়।