![]() |
| Photo: Press Information Department (PID) / Wikimedia Commons |
যানজটমুক্ত ও শৃঙ্খলিত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার। রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা
বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে উঠে আসে যত্রতত্র পার্কিং, ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং অপরিকল্পিত বাস রুট পরিচালনার সমস্যাগুলো। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো—রাজধানীর সড়কে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা এবং এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। দীর্ঘ দিন ধরে এ ধরনের বাসগুলো রাজপথের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে আসছিল।
আগামী চার মাসের মধ্যে ইটিসি সিস্টেম ও মোবাইল অ্যাপ চালুর কড়া নির্দেশ
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সামনে রেখে যানজটের একটি বড় কারণ—টোল প্লাজার দীর্ঘ সারি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে ও বিভিন্ন ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম চালুর জোরালো সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সেবা সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দিতে একটি আধুনিক মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজও শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী চার মাসের কঠোর ডেডলাইনের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত কাজটি শতভাগ সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ
যানজট নিরসন কেবল একক কোনো সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা অনুধাবন করে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী ও ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকাবাসীর নিত্যদিনের ট্রাফিক জ্যামের অভিশাপ অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পরিবহন খাতের এই উদ্যোগের ইতিবাচক দিক ও সম্ভাবনা
রাজধানীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বর্তমান প্রশাসনের এই তড়িৎ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে আধুনিক ইটিসি সিস্টেম এবং মোবাইল অ্যাপ চালুর সিদ্ধান্ত ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এতে একদিকে যেমন মূল্যবান সময় অপচয় কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস পাবে।
বাস্তবায়ন নিয়ে চ্যালেঞ্জ ও কিছু নেতিবাচক আশঙ্কা
তবে শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা দিলেই চলবে না, এর প্রকৃত বাস্তবায়ন নিয়ে নগরবাসীর মনে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়। অতীতেও নানা সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও জোরালো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। এছাড়া, অনুমোদনহীন স্লিপার বাস বন্ধ করার পর সাধারণ যাত্রীদের যাতে বিকল্প যাতায়াত সংকটে পড়তে না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি রাখা জরুরি।
