মেডিকেল প্রশ্নফাঁস ও জেন-জি আন্দোলন: মুম্বইতে তরুণদের পাশে আরএসএস প্রধান

মেডিকেল প্রশ্নফাঁস ও জেন-জি আন্দোলন: মুম্বইতে তরুণদের পাশে আরএসএস প্রধান


ভারতে জাতীয় স্তরের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে সারা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা 'জেন-জি' (Gen Z)-র নজিরবিহীন সড়ক আন্দোলন ও প্রতিবাদী অবস্থানের পর শিক্ষাব্যবস্থার গলদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই প্রবল ছাত্র বিক্ষোভের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা পর্যন্ত দিতে হয়। আন্দোলনের নেপথ্যে কোনো বিদেশি অর্থনৈতিক ইন্ধন কিংবা সরকারবিরোধী শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে জাতীয় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিতর্ক চললেও, একটা বিষয় পরিষ্কার—তরুণ সমাজের এই ক্ষোভ বর্তমান শিক্ষাকাঠামোর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির পটভূমিতে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত।

মুম্বইয়ের কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রীদের মুখোমুখি মোহন ভাগবত

সম্প্রতি মুম্বইতে আয়োজিত তরুণদের এক মতবিনিময় সভায় আরএসএস প্রধান অত্যন্ত ইতিবাচক ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। আন্দোলনরত তরুণদের ঢালাওভাবে সমালোচনা না করে তিনি তাদের দাবিকে সঙ্গত বলে অভিহিত করেন।

সংঘ প্রধানের বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:

  • আন্দোলন দেশবিরোধী নয়: জেন-জি প্রজন্মের এই প্রতিবাদকে কোনোভাবেই দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়া যায় না।
  • সংলাপ ও আলোচনা: বিবাদ বা অবহেলা নয়, বরং তরুণদের উদ্বেগের মূল কারণ বুঝতে তাদের সাথে খোলাখুলি আলোচনা করা প্রয়োজন।
  • সবার জন্য সমান সুযোগ: শিক্ষাব্যবস্থার এমন সংস্কার দরকার যাতে সমাজের কোনো শিক্ষার্থীই সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।
  • ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা: দেশের সামগ্রিক উন্নতি ও ভিত্তি মজবুত করতে এবং সমাজ গঠনে এই নতুন প্রজন্মের অবদান অপরিসীম।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও জেন-জি ভোটারদের প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মোহন ভাগবতের এই বার্তা মোটেও আকস্মিক নয়; এর পেছনে রয়েছে দূরদর্শী রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানার এই কৌশল।

সরকারি ও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু উত্তরপ্রদেশেই প্রায় ৩৫ কোটি জেন-জি জনগোষ্ঠীর বসবাস, যা মোট জনসংখ্যার প্রতি ৩ জনে ১ জন। ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই বিশাল তরুণ ভোটারগোষ্ঠী যে জয়ের নিয়ামক শক্তি হতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) অধিকারের সমর্থনে অবস্থান

শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন সংঘ প্রধান। এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন— ওঁরা আমাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ নন, বরং সমাজ কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমকামী মানুষদের একসঙ্গে নিরাপদে বসবাস নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়ন

ইতিবাচক দিক: তরুণদের আন্দোলনকে 'দেশবিরোধী' তকমা না দিয়ে তাদের যৌক্তিক ক্ষোভকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আলোচনার আহ্বান জানানো অত্যন্ত সময়োপযোগী। রাজনৈতিক ও সামাজিক অচলাবস্থা নিরসনে সংঘাতের বদলে সংলাপের এই নীতি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

নেতিবাচক দিক: তবে সমালোচকদের মতে, ভোট রাজনীতি ও নির্বাচনী হিসাব বিবেচনা করেই কেবল তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বহু বছর ধরে চলে আসা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর কেলেঙ্কারির পর কেবল সহানুভূতির বার্তায় তরুণদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কতটা কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।