চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফে লিওঁকে হারিয়ে ফেনারবাচের ঐতিহাসিক জয় ও গুন্দুজির কান্ড

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ ম্যাচে লিওঁকে হারিয়ে ফেনারবাচের ঐতিহাসিক জয়। ম্যাচ শেষের উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ ও অন্যান্য ম্যাচের ফলাফল বিস্তারিত জানুন।
​Matteo Guendouzi celebrating Fenerbahce's win against Lyon in the Champions League playoff.


চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর প্লে-অফ: ফেনারবাচের ঐতিহাসিক জয়, গুন্দুজির কান্ড ও অন্যান্য ম্যাচের ফলাফল

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ পর্বে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁ এবং তুর্কি জায়ান্ট ফেনারবাচের মধ্যকার ম্যাচটি শুধু মাঠের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের জন্যই নয়, বরং ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত সহিংসতার কারণে ফুটবল বিশ্বে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় লেগে ফ্রান্সের গ্রুপামা স্টেডিয়ামে খেলতে নামে ফেনারবাচে। আগের লেগের হতাশা ঝেড়ে ফেলে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় তুর্কি ক্লাবটি।

ম্যাচের মূল চিত্র ও ফেনারবাচের ঐতিহাসিক জয়

  • প্রথমার্ধে লিড: ম্যাচের ২৪তম মিনিটে কসোভোর তারকা ফরোয়ার্ড ভেদাত মিউরিকি রিবাউন্ড থেকে বল জালে জড়িয়ে ফেনারবাচে এগিয়ে দেন (১-০)।
  • দ্বিতীয় গোল: এর ঠিক চার মিনিট পর (২৮তম মিনিটে) ম্যাসন গ্রিনউডের কর্নার থেকে দারুণ এক হেড করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইংলিশ ডিফেন্ডার আর্চি ব্রাউন (২-০)।
  • লিওর চেষ্টা ও বাতিল গোল: দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় লিওঁ। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ফরাসি দলটির উদীয়মান উইঙ্গার ম্যালিক ফোফানা একটি গোল শোধ করেন। এরপর লুইস ওপেন্দা ও কাইল বৌদাশের বল জালে জড়ালেও তা ভিএআর (VAR)-এর সুবাদে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।
  • মূল পর্বে ফেনারবাচে: শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফেনারবাচে এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানের এগ্রিগেট জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল লিগ পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে।

ম্যাচ শেষের যত কাণ্ড: গুন্দুজির উসকানি ও বড় সংঘর্ষ

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর পরই গ্রুপামা স্টেডিয়ামে এক লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যায়, যা রূপ নেয় মাঠের বাইরের পূর্ণাঙ্গ মারামারিতে। ফেনারবাচের ফরাসি মিডফিল্ডার মাতেও গুন্দুজি অতীতে লিওর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব অলিম্পিক মার্সেইয়ের হয়ে খেলেছিলেন। এই কারণে পুরো ম্যাচ জুড়েই তাকে তীব্র দুয়ো ও গালিগালাজ করছিল লিওর হোম সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর গুন্দুজি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উত্তেজনাকর অঙ্গভঙ্গি করেন এবং মার্সেইয়ের প্রতীকী সাইন প্রদর্শন করেন।

এই আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে লিওর খেলোয়াড় ও সমর্থকরা তেড়ে আসেন। মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় টানেলের ভেতরে। দুই দলের প্রায় ২০ জনের বেশি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ হাতাহাতি, ঘুষাঘুষি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে নিরাপত্তা কর্মী ও অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গুন্দুজি দাবি করেন যে দর্শকরা পুরো সময় তার পরিবারকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে, তবে এই সহিংসতার কারণে উয়েফার কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তিনি।

অন্যান্য প্লে-অফ ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল

  • এইকে এথেন্স বনাম লেভস্কি সোফিয়া: হাঙ্গেরিয়ান ফরোয়ার্ড বার্নাবাস ভার্গার জোড়া গোল, লুকা জোভিচের এক গোল এবং রাজভান মারিনের পেনাল্টিতে লেভস্কি সোফিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বে উঠেছে গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্স।
  • ভাইকিং স্টাভাঞ্জার বনাম দিনামো জাগ্রেব: প্রথম লেগে ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে দিনামো জাগ্রেবকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এগ্রিগেট এ ৫-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে নরওয়ের ক্লাব ভাইকিং স্টাভাঞ্জার। ক্লাবের ইতিহাসে এই প্রথম তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ বা লিগ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল।
  • স্লোভান ব্রাতিস্লাভা বনাম সেলজে: স্লোভেনিয়ার ক্লাব সেলজের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় গোলে জয় পায় স্লোভান ব্রাতিস্লাভা। পানামার মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান মার্টিনেজের জয়সূচক গোলে এগ্রিগেট এ ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দুই মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

ম্যাচ নিয়ে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি

ইতিবাচক দিক

ফেনারবাচের এই জয় প্রমাণ করে যে তুর্কি ক্লাবগুলো ইউরোপিয়ান মঞ্চে যেকোনো কঠিন প্রতিপক্ষকে তাদের হোমগ্রাউন্ডে গিয়ে ঘায়েল করার সামর্থ্য রাখে। বিশেষ করে নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই দলটির ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন এবং মাঠের লড়াইয়ের মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়া ভাইকিং স্টাভাঞ্জারের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মূল পর্বে ওঠা ফুটবলের রোমাঞ্চকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নেতিবাচক দিক

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারির দর্শক এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনা ফুটবল সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। মাতেও গুন্দুজির অতিরিক্ত এবং উসকানিমূলক উদযাপিত আচরণ মাঠের শান্তি নষ্ট করেছে, যা উয়েফার কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এ ধরনের মারমুখী আচরণ খেলাধুলার মূল স্পিরিটকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।

Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...