ওপার বাংলার ছোট ও বড় পর্দার অত্যন্ত পরিচিত মুখ মধুমিতা সরকার এখন বাংলাদেশে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি রাজধানী ঢাকার মাটিতে পা রাখেন। হঠাৎ কোনো সফর নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন একটি বিগ বাজেট চলচ্চিত্রে কাজ করার লক্ষ্যেই তার এই ঢাকা আগমন।
ঢাকার একটি নামি পাঁচতারা হোটেলে আজ সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন চলচ্চিত্র ‘গুলশানের চামেলি’-র শুভ মহরত। আর এই আন্তর্জাতিক মানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকতেই মধুমিতার এই ঢাকা যাত্রা।
কেন বাংলাদেশে এলেন মধুমিতা?
ছবিটির প্রযোজক ও নির্দেশক মোহাম্মদ ইকবাল সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীদের এক নতুন গল্প উপহার দিতেই তাদের এই প্রচেষ্টা।
তিনি জানান:
- আজ রাতের মহরত অনুষ্ঠানে আমাদের এই নতুন প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এখানে সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর নাম ঘোষণার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলীদের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। মধুমিতা সরকার আমাদের এই বিগ প্রজেক্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
শুটিং শুরু কবে?
মহরত আজ অনুষ্ঠিত হলেও রূপালী পর্দায় এই গল্পের দৃশ্যধারণ এখনই শুরু হচ্ছে না। সিনেমাটির মূল চিত্রনাট্যের শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে পরিচালক ইকবাল স্পষ্ট জানান, চলতি বছরের নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাস থেকে দেশের বিভিন্ন লোকেশনে মূল শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কী থাকছে ‘গুলশানের চামেলি’র গল্প ও তারকাবহুল তালিকায়?
ছবিটি নিছক কোনো বাণিজ্যিক প্রেমের গল্প নয়। এটি নির্মিত হচ্ছে একজন যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রাম, সামাজিক টানাপোড়েন ও নির্মম বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে।
এই ভিন্নধর্মী ও সংবেদনশীল গল্পের ক্যানভাসে ঢালিউড ও টলিউডের একঝাঁক প্রবীণ ও নবীন তারকাকে এক ফ্রেমে আনছেন নির্মাতা। ছবিটির কাস্টিং লিস্টে থাকছে চমকপ্রদ সব নাম:
- ওমর সানী: নব্বই দশকের অন্যতম সফল নায়ক।
- আমিন খান: ঢালিউডের সুপরিচিত অভিনেতা।
- আশীষ খন্দকার: শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা।
- রোজিনা: ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
- আজমেরী হক বাঁধন: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী।
দৃষ্টিভঙ্গি ও সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
🟢 ইতিবাচক দিক (Positive View)
বাংলাদেশি সিনেমায় ওপার বাংলার জনপ্রিয় মুখ মধুমিতা সরকার এবং আমাদের দেশের আজমেরী হক বাঁধন কিংবা রোজিনার মতো গুণী অভিনেত্রীদের এক ফ্রেমে নিয়ে আসা বেশ সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। দুই বাংলার এই পেশাদার শিল্পী বিনিময় ঢালিউডের আন্তর্জাতিক বাজার প্রসারিত করতে সাহায্য করবে। তাছাড়া একজন প্রান্তিক নারীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে এমন বাস্তবমুখী গল্প দর্শকদের থিয়েটারমুখী করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
🔴 নেতিবাচক দিক (Negative View)
যৌনকর্মীর জীবনভিত্তিক স্পর্শকাতর গল্প প্রেক্ষাগৃহে ও সেন্সর বোর্ডে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নিয়ে একটা শঙ্কা থেকেই যায়। এছাড়া ইদানীং অনেক সিনেমার মহরত অনেক ধুমধাম করে হলেও পরবর্তীতে সঠিক সময়ে শুটিং শুরু হওয়া বা মুক্তির মুখ দেখা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তাই ঘোষণার চমক শেষ পর্যন্ত রূপালী পর্দায় কতটা মানসম্মতভাবে ফুটে ওঠে, তা নিয়ে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মনে কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র ও সৌজন্য: অনলাইন পোর্টাল jagonews24.com-এ প্রকাশিত সংবাদ অনুসরণে প্রতিবেদনটি পুনঃরচিত ও বিশ্লেষিত।
