![]() |
| সাধারণ ক্রেডিট: Photo: Nowrin Sanjana (pexels) |
দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় জীবনযাত্রার শেষ অধ্যায় পার করে পরলোকগমন করেছেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে তিনি চিরবিদায় নেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি এক পরিচিত মুখ ছিলেন, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রয়াণ ও শেষকৃত্য সম্পন্ন
পারিবারিক সূত্র ও তার বড় ছেলে অরবিন্দ রায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৯ নম্বর মঙ্গলপুর ইউনিয়নের মোস্তফাবাদ গ্রামে অবস্থিত নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান নেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। দীর্ঘকাল ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার প্রয়াণের খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, বুধবার দুপুরে মোস্তফাবাদ এলাকার পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, দুই কন্যা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও অবদান
সতীশ চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও বর্ণাঢ্য। তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্যই ছিলেন না, বরং স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবেও অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তৎকালীন দিনাজপুর-৭ ও পরবর্তী সময়ে দিনাজপুর-২ আসন থেকে তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বিগত সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভায় তিনি প্রথমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। দলীয় রাজনীতিতেও তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন।
স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গি: একটি মূল্যায়ন
ইতিবাচক দিক:
সতীশ চন্দ্র রায় স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তার এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন এবং অবহেলিত জনপদে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান এলাকার মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক ছাপ রেখে গেছে।
নেতিবাচক দিক:
নেতিবাচক দিক: দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে স্থানীয় রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং দলীয় বিভাজনের কারণে তার অনুসারী ও সাধারণ জনগণের একটি অংশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এছাড়া প্রবীণ এই নেতার সময়ে এলাকার বড় ধরনের কর্মসংস্থান বা শিল্পায়ন না হওয়া নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে প্রায়ই আক্ষেপ প্রকাশ করা হতো।
