![]() |
| Lara Jameson pexels |
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘের মূল ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার ঘোষণার পর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (যেটি পূর্বে টুইটার নামে পরিচিত ছিল)-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই মার্কিন নীতির নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো পরাশক্তিই বিশ্বের অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র বা তাদের ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমানবন্দরগুলোকে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করতে পারে না।
বাঘায়ী আরও সতর্ক করে বলেছেন, একতরফা এই ধরনের মার্কিন নীতি চলতে থাকলে তা জাতিসংঘের বৈশ্বিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি ধ্বংস করে দেবে। এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ, যা বিশ্বকে পুনরায় সেই পুরনো ঔপনিবেশিক যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার শামিল।
এই প্রতিবেদনের পেছনের কথা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শীতল লড়াই নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটনের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই একরোখা নীতি মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমেরিকার একক আধিপত্য বজায় রাখার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল মাত্র।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কেবল ইরানকেই কোণঠাসা করছে না, বরং এর ধাক্কা আন্তর্জাতিক মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বাজারেও গিয়ে লাগছে। বিশেষ করে, এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ এখন মার্কিন এই একতরফা চাপের কারণে বিকল্প বাণিজ্যিক পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের চোখে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক
- ইতিবাচক দিক: এই ধরনের বৈশ্বিক সংকটের ফলে স্বাধীন দেশগুলো এখন নিজস্ব বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে। মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য কমাতে ব্রিকসসহ বিভিন্ন জোট যেভাবে নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য করার কথা ভাবছে, তা দীর্ঘমেয়াদে একক কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে একটি বহুমুখী বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
- নেতিবাচক দিক: এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ ইরানি জনগণের জীবনযাত্রা আরও বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
