১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন শীর্ষ নেতারা

সরকারের ভুল নীতি ও জনগণের দুর্ভোগের প্রতিবাদে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হক ও মিয়া গোলাম পরও
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন শীর্ষ নেতারা


 দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করে আজ শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের বহুল আলোচিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ। রাজধানী ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এর আগে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশে দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

​উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান বক্তাদের বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে সভাপতিত্ব ও সমন্বয় করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান প্রশাসন জাতির সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা করেছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, ক্ষমতার মসনদে থেকে যদি কেউ সাধারণ জাতিকে ভুল পথে চালিত করার অপচেষ্টা চালায়, তবে তাদের সেই গদি থেকে নামাতে তাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ বা হাত কাঁপবে না।

​অন্যদিকে, সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি লংঘন করার পাশাপাশি গণভোটের সঠিক রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ এনে তিনি অবিলম্বে সরকারকে ভুল স্বীকার করে সংসদীয় পর্যায়ে সংবিধান সংস্কারের জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

​লংমার্চের উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে আটটার দিকে লংমার্চের গাড়ি বহর চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়।

বিশ্লেষণ ও জনমত মূল্যায়ন

ইতিবাচক দিক:

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একটি বৃহত্তর মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্মের অধীনে এই ধরনের কর্মসূচি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি নীতিনির্ধারক মহলে জনরোষ ও জনমতের তীব্রতা ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

নেতিবাচক দিক:

এ ধরনের লংমার্চ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোর কারণে প্রায়শই রাজপথে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া রাজনৈতিক সংঘাত বা উত্তেজনার আশঙ্কা থাকায় জনমনে এক ধরনের অদৃশ্য আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।

Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...