​গোল্ডেন বুটের মহালড়াই: ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি ট্রফির ভাগ্য বদলে দিতে পারে?

 

গোল্ডেন বুটের মহালড়াই: ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি ট্রফির ভাগ্য বদলে দিতে পারে?



​গোল্ডেন বুটের মহালড়াই: ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি ট্রফির ভাগ্য বদলে দিতে পারে?

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে, সেই চরম উত্তেজনার পাশাপাশি এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার 'গোল্ডেন বুট'। তবে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর খেলোয়াড়দের মনে একটি প্রশ্ন এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে—তাদের জন্য কি এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ের সুযোগ আর আছে?  

​ফিফা (FIFA) নিয়ম অনুযায়ী এই সুযোগ তাদের এখনো পুরোপুরি রয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপের অফিশিয়াল নিয়ম অনুসারে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের মূল হিসাবের সঙ্গে সরাসরি যোগ করা হয়। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে জানা যায়, অনেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকারই এই ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মাথায় গোল্ডেন বুটের মুকুট পরেছেন।  

শীর্ষ তালিকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: এক নজরে বর্তমান পরিসংখ্যান

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আসরে শেষ দুটি ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে টিকে আছেন সাতজন দুর্দান্ত ফুটবলার, যাদের প্রত্যেকের ঝুলিতে রয়েছে ৫ বা তার বেশি গোল। নিচে বর্তমান গোলদাতার তালিকাটি দেওয়া হলো:  

লিওনেল মেসি:8 
কিলিয়ান এমবাপ্পে:8
আর্লিং হালান্ড :7
হ্যারি কেইন: 6
জুড বেলিংহ্যাম:5
উসমান দেম্বেলে:5
মিকেল ওইয়ারজাবাল:5

বর্তমানে ৮টি করে গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার যৌথ শীর্ষে অবস্থান করছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ফিফার বিশেষ টাইব্রেকার নিয়মের কারণে এমবাপ্পের চেয়ে একটি অ্যাসিস্ট (গোল করানো) বেশি থাকায় মেসি আপাতত তালিকায় কিছুটা এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, নরওয়ের গোল-মেশিন আর্লিং হালান্ড ৭ গোল নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তার দল বিদায় নেওয়ায় তার আর গোলসংখ্যা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।  

সিদ্ধান্তমূলক উইকএন্ড: কার হাতে উঠছে বুট?

আসন্ন শনি ও রোববারের ম্যাচ দুটি গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণে বিশাল ভূমিকা রাখবে:  

​শনিবার (তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ): মুখোমুখি হবে দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। যেহেতু দুই দলেই একাধিক গোল্ডেন বুট প্রত্যাশী (এমবাপ্পে, কেইন, বেলিংহ্যাম ও দেম্বেলে) রয়েছেন, তাই এই ম্যাচটি গোলদাতার তালিকায় বড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিতে পারে।  

​রোববার (ফাইনাল ম্যাচ): শিরোপার মহালড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যেখানে লিওনেল মেসি ও মিকেল ওইয়ারজাবাল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার শেষ সুযোগ পাবেন।  

​একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের ম্যানেজাররা তাদের সেরা একাদশ মাঠে নামাবেন কি না, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। যদি এমবাপ্পে বা কেইন শুরু থেকেই খেলার সুযোগ পান, তবে রবিবারের ফাইনাল শুরুর আগেই গোল্ডেন বুটের শীর্ষ তালিকায় নাটকীয় পরিবর্তন আসতে পারে।  

ইতিহাস কী বলে? তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ম্যাজিক

অনেকেই বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে কিছুটা গুরুত্বহীন মনে করলেও ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ পর্যন্ত মোট ৭ জন গোল্ডেন বুটজয়ী ফুটবলার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছেন। এর মধ্যে ৪ জন খেলোয়াড় তো এই ম্যাচের গোলের কল্যাণেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারটি নিশ্চিত করেছিলেন:  

​থমাস মুলার (জার্মানি, ২০১০): ২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে গোল্ডেন বুট নিজের করে নেন।  

​ডাভর সুকের (ক্রোয়েশিয়া, ১৯৯৮): নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ৬-এ নিয়ে যান এবং পুরস্কারটি নিশ্চিত করেন।  

​সালভাতোরে শিলাচি (ইতালি, ১৯৯০): ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে গোল্ডেন বুট জয় নিশ্চিত করেছিলেন।  

​লিওনিদাস (ব্রাজিল, ১৯৩৮): সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে গোল করে সেবার সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট পরেন।  

​এছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেগর্জ লাতো, পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিও এবং ফ্রান্সের জ্যঁ ফন্তেইনও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে ওই গোল না হলেও পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণেই তারা গোল্ডেন বুট পেয়ে যেতেন। 

আর্জেন্টিনা জিতলে ফের বিয়ের ঘোষণা পরীমনির|ভাইরাল পোস্টে কী বললেন অভিনেত্রী?