![]() |
| Photo: Press Information Department (PID) / Wikimedia Commons |
| মেটাজোয়ান/প্রতিবেদক: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই অর্ধশতিকা বা ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি দেশের মানুষের মতামত প্রকাশ করেছে স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড। ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক এই বিশেষ জনমত জরিপটিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ইনোভিশন কনসালটিং। চলতি বছরের আগস্ট মাসে পরিচালিত এই জরিপ প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, জনমনে স্বস্তি ও ক্ষোভের নানা চিত্র উঠে এসেছে। |
জরিপের মূল হাইলাইটস এক নজরে
- জরিপের পরিধি: প্রাপ্তবয়স্কদের একটি নির্দিষ্ট প্যানেল থেকে সরাসরি ১০,৪১৩টি কল করা হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতা: ৬৬.৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
- দেশের গতিপথ: ৪৮.৬ শতাংশ নাগরিক মনে করছেন দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে।
- প্রধান উদ্বেগ: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি।
- ভবিষ্যতের প্রত্যাশা: আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে অনেকেই ‘সতর্ক আশাবাদ’ ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির চিত্র
ডপলার রিসার্চের সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও কর্মতৎপরতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দেশের সিংহভাগ মানুষ। সম্প্রতি প্রকাশিত এই জরিপে অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতাদের ৬৬.৩ শতাংশ মনে করেন যে, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সফলভাবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, জরিপে অংশ নেওয়াদের মধ্যে মাত্র ২১.৬ শতাংশ মানুষ তাঁর কার্যক্রমে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বাকি ১২.১ শতাংশ উত্তরদাতা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়নের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও কাজের গতিশীলতা সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকার দলীয় সমর্থকদের সীমানা পেরিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক শিবিরের ভোটারদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা গেছে। জরিপের তথ্য বলছে:
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫.৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট।
- জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে এই হার ৬৫.৮ শতাংশ।
- এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকগোষ্ঠীরও ৫২.৫ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের প্রশংসা করেছেন।
সরকারের কাজ ও দেশের দিকনির্দেশনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
দেশের সার্বিক পরিস্থিতির মূল্যায়নে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৫৪.৫ শতাংশ মানুষ, তবে এর বিপরীতে নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন ৩২.৯ শতাংশ উত্তরদাতা। তুলনামূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে সন্তুষ্টির হার অনেক বেশি থাকলেও, সামগ্রিক সরকারের কাজের ক্ষেত্রে এই সূচকটি কিছুটা নিচে নেমে এসেছে।
এছাড়া, "দেশ কি সঠিক পথে চলছে?"—এই মৌলিক প্রশ্নটিতেও দেশবাসীর মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের ৪৮.৬ শতাংশ ইতিবাচক মতামত দিলেও, ৩৫.৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশ বর্তমানে ভুল ট্র্যাকে রয়েছে।
জনজীবনের প্রধান সংকট: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে কোন বিষয়গুলো? এই প্রশ্নের জবাবে জনরোষ বা উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মুদ্রাস্ফীতি ও বিদ্যুৎ সমস্যা।
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: ৫৯.৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ৮৯.৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বেশ নাজুক, আর ৭৯.৬ শতাংশ জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট নিয়ে অসন্তুষ্ট।
- নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য: ৫৯.১ শতাংশ নাগরিক খাবারের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন। জরিপে প্রায় ৬৯.১ শতাংশ উত্তরদাতা পণ্যের চড়া মূল্যের সমালোচনা করেছেন।
- অন্যান্য সমস্যা: তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি (৩২.৬ শতাংশ) এবং বেকারত্ব বা কর্মসংস্থানের অভাব (৩০.৮ শতাংশ)।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশা
বিগত দিনগুলোর অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও আগামী দিনগুলো নিয়ে মানুষ সম্পূর্ণ হতাশ নয়; বরং একটি বড় অংশ আশার আলো দেখছেন।
- পারিবারিক আর্থিক অবস্থা: বিগত এক বছরের তুলনায় নিজেদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ৪৬.৫ শতাংশ মানুষ। তবে ১৭.৫ শতাংশ জানিয়েছেন তাঁদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
- আগামী ১২ মাসের পূর্বাভাস: সামনের এক বছরে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ৩৮.১ শতাংশ নাগরিক।
- রাষ্ট্রীয় আশাবাদ: দেশ সামগ্রিকভাবে আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে যাবে—এমনটা বিশ্বাস করেন ৪৮.৪ শতাংশ উত্তরদাতা।
সরকারের বিশেষ পদক্ষেপে জনগণের সমর্থন
বর্তমান সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনাকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে:
💡 পজিটিভ মন্তব্য
এই জরিপের অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য ও আশাব্যঞ্জক দিক হলো—সব ধরনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিভেদ পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সুদৃঢ় অবস্থান। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বিরোধী দলগুলোর সমর্থকদের মাঝেও তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের এই প্রকাশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাশাপাশি, ফ্যামিলি কার্ড ও জনবান্ধব করনীতির মতো যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলোর প্রতি জনগণের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন এটিই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ সরকারের এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও সুফলগুলো পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে পারছে।
⚠️ নেতিবাচক মন্তব্য
অন্যদিকে, জ্বালানি খাত, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরকারের সার্বিক অর্জনে বড় ধরনের ছায়া ফেলছে। সাধারণ মানুষ সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সন্তুষ্ট হলেও নিত্যদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা। এই মৌলিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে জনমনে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে, যা সরকারের অন্যান্য ভালো উদ্যোগগুলোকে ম্লান করে দিতে পারে।
